ধর্মপাশা ও মধ্যনগর প্রতিনিধি::
প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন মনাই নদীতে দুটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সরকার দলীয় দুইজন নেতা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ওই নদী সংলগ্ন নোয়াগাঁও গ্রামের বসতবাড়ি ও দক্ষিণপাশে থাকা বোরো ধানের জমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় এলাকার মানুষজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের সামনে দিয়ে মনাই নদীটি প্রবাহিত। গত ১০ থেকে ১২দিন ধরে এই নদী থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন কার্যক্রম চলে আসছে। উপজেলার মোহাম্মদ আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য এনামুল হক (৩৫) এবং একই উপজেলার কাকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদ মিয়া (৩৬) এই দুইজন মিলে লোকজন নিয়োজিত করে এই কাজ চালিয়ে আসছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ করে বলেন, সরকার দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যুবদল নেতা এনামুল হক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহিদ মিয়া মনাই নদী থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা অন্যত্র বিক্রি করে আসছেন। এ নিয়ে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। যেনতেনভাবে ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলন করায় আমাদের বসতবাড়ি ও ফসলিজমি ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের জোর দাবি জানান। মধ্যনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য এনামুল হক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদ মিয়া তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মনাই নদীতে দুটি ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের কাজে আমরা জড়িত নই। আমাদের নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তোবা অবৈধভাবে এই কাজটি করে আসছেন। প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি। উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেবুর আলম বলেন, মনাই নদী থেকে দুটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এতে কারা জড়িত তা আমি জানি না। অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করায় বসতবাড়ি ও বোরো ফসলি জমি হুমকিতে রয়েছে। বালি উত্তোলনে প্রশাসনের অনুমতি না নেওয়া হয়ে থাকলে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কাজে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ধর্মপাশার ইউএনও জনি রায় বলেন, মনাই নদী থেকে বালি উত্তোলনের জন্য প্রশাসন থেকে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। খোঁজ নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
দুই ড্রেজারে মনাই নদীর বালু লুট, ভাঙনের হুমকিতে বসতবাড়ি, বোরো জমি
- আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ১২:২১:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ১২:২২:৩৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি